অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফ’র বন্দুকের ছররা গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা চোরাচালানের সাথে জড়িত ছিলেন বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফ’র হেফাজতে রয়েছে। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি তৎপর রয়েছেন।
শুক্রবার (৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করেন।
পরে ভারত থেকে চোরাচালানি মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। তিনি ধজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আহত অপর ব্যক্তিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে দুইজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, অন্যজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিএসএফ জানিয়েছে, হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
মন্তব্য করুন